skip to Main Content
02 55138581-84 asiainsu@gmail.com

মাননীয় চেয়ারম্যানের বক্তব্য

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সম্মানীত শেয়ারহোল্ডারবৃন্দ,
কোম্পানির পরিচালক পরিষদের সম্মানীত সদস্যবৃন্দ,

আস্সালামু আলাইকুম।

এশিয়া ইন্স্যূরেন্স লিমিটেড এর ১৯তম বার্ষিক সাধারন সভায় আপনাদের সকলকে আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে স্বাগত জানাচ্ছি। আজকের এই সভায় আপনাদের স্বতষ্ফুর্ত অংশ গ্রহনের মধ্য দিয়ে কোম্পানির উপর আপনাদের আস্থা ও আন্তরিক সমর্থন এবং আপনাদের অব্যাহত সহযোগিতার বিষয়টি আমরা গভীর ভাবে অনুভব করছি। এর পাশাপাশি আপনাদের নিরবিচ্ছিন্ন আস্থা ও বিশ্বাসের কারনে আপনাদের প্রতি আমি আমার পক্ষ হতে এবং কোম্পানির পরিচালনা পরিষদ ও সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মাচরীদের পক্ষ হতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

প্রিয় শেয়ারহোল্ডারবৃন্দ,

২০০০ইং সালে আমাদের যাত্রা শুরুর পর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের দীর্ঘ ১৯ বছরে আমাদের গ্রাহক সেবার পাশাপাশি সম্মানীত শেয়ারহোল্ডারগনের স্বার্থ সংরক্ষনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কোম্পানির অগ্রযাত্রাকে অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হয়েছি বলে জাতীয় অর্থনীতির সমৃদ্ধিতে আমরাও অংশীদার হতে পেরেছি।

সম্মানীত শেয়ারহোল্ডারবৃন্দ,

অপার সম্ভাবনার দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। আমরা এগিয়ে চলেছি বিকাশমান অর্থনীতির এমন একটি পথ ধরে, যা’ আজ পুরো পৃথিবী জুড়ে বাংলাদেশকে একটি স্বতন্ত্র ও সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে। আজ জাতীয় প্রবৃদ্ধি ঈর্ষনীয় পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। তথ্য যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানী, ঔষধ ও গার্মেন্টস্ শিল্প, তথ্য প্রযুক্তি, নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শিক্ষা উন্নয়ন সহ আমাদের বিভিন্ন সেবা খাতে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, তা’ বিশ্ব আজ অবাক বিস্ময়ে অবলোকন করছে। কিন্তু দেশের এই প্রশংসনীয় অগ্রগতির সাথে পাল্লা দিয়ে দেশের বীমা খাতের সামষ্টিক অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। মূলতঃ দেশের জনসাধারনের মাঝে বীমা বিষয়ক সচেতনতার অভাব এবং বিশ্বাসের ঘাটতি থাকার পাশাপাশি বীমা খাতের বিদ্যমান অনিয়ম, অসুস্থ প্রতিযোগিতায় ঝুঁকি প্রশমনকারী বীমা খাতকেই এদেশের জনগন ঝুঁকি পূর্ন মনে করে। ইন্স্যূরেন্সের মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যে সম্ভব তা’ জনসাধারনের উপলব্ধিতে সঞ্চারিত করাই এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি নেতিবাচক ধারনার মধ্য দিয়েই দেশের বীমা খাতের বিকাশ ঘটছে এবং তা’ ধীরগতির একটি বিকাশমান ধারা। এই অবস্থায় জাতীয় অর্থনীতির সমৃদ্ধিতে যাতে বীমা খাত উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে, তা’ নিশ্চিত করার জন্য জনগনকে বীমা মূখী করতে ইতিমধ্যে সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহন করে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

বীমা আইনকে কার্যকর করার লক্ষ্যে বিধি ও প্রবিধানমালা সহ বীমা নীতিমালা প্রনয়নের পাশাপাশি বীমা খাতের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশে বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগিতায় বীমা খাত উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বীমা খাতে কর্পোরেট গর্ভন্যান্স নিশ্চিত করন, এজেন্ট কমিশনে শৃঙ্খলা আনয়ন, বীমা কোম্পানির অভিন্ন সংগঠনিক কাঠামো, বীমা খাতকে অটোমেশনের আওতায় আনা এবং দ্রæত দাবী নিষ্পত্তিতে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। যা’ বীমা খাতের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

প্রিয় শেয়ারহোল্ডারবৃন্দ,

এশিয়া ইন্স্যূরেন্স লিমিটেড আপনাদের বিনিয়োগকৃত অর্থে পরিচালিত একটি নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান। দেশের প্রতিযোগিতামূলক বাজার অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও বীমা বাজারের নানাবিধ প্রতিকূলতার মাঝেও আমরা কোম্পানির বিকাশের ধারাকে অব্যাহত রাখতে পেরেছি এবং সরকার ও নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষের গৃহীত পদক্ষেপ গুলো বাস্তবায়নে আমরাও নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।

সম্মানীত শেয়ারহোল্ডারবৃন্দ,

অত্র কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পর্যালোচনায় প্রাপ্ত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে আপনাদেরকে অবগত করছি যে, ২০১৭ইং সালের তুলনায় কোম্পানির ২০১৮ইং সালের গ্রস প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। এদিকে কোম্পানির অবলিখন মুনাফা ২০১৭ইং সালে ছিল ৬,১৫,৬২,৯৭১/- টাকা, যা’ ২০১৮ইং সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৯,৬৬,২২,৮১৭/- টাকা।

অপরদিকে, ২০১৮ইং সালে কোম্পানির বিনিয়োগ হতে আয় হয়েছে ৫,৩৯,৪৩,৯৫৮/- টাকা এবং কোম্পানির কর পূর্ব ও কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে যাথাক্রমে ৯,৩৭,৮৭,৩৫৭/- টাকা ও ৬,৬৩,৭৬,৮১০/- টাকা।

প্রিয় শেয়ারহোল্ডারবৃন্দ,

এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড কোম্পানির নিজস্ব বীমা ব্যবসার পরিধি বাড়ানো জন্য সদা সচেষ্ট রয়েছে। নতুন নতুন বীমা গ্রাহক খোঁজার পাশাপাশি নতুন ধরনের বীমা ব্যবসা যাতে কোম্পানিতে আন্ডাররাইট করা হয়, সে বিষয়ে আমরা নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহন করেছি। মূলতঃ আমরা পেশাদারিত্বের উপর গুরুত্ব দিয়ে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের দক্ষ ও নিষ্ঠাবান কর্মীবাহিনী বীমা সেক্টরে সকল প্রতিকূলতার মাঝেও স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সাথে কোম্পানিকে উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে উন্নীত করা এবং সম্মানীত বীমা গ্রাহকদের সুষ্ঠু সেবা প্রদানে সচেষ্ট রয়েছে। যার প্রেক্ষিতে অদ্যকার বার্ষিক সাধারন সভায় সম্মানীত শেয়ারহোল্ডারগনের জন্য ১০% নগদ ডিভিডেন্ট প্রদানের সুপারিশ রাখতে পেরেছি। যা’ আপনাদের অনুমোদনের জন্য সভায় পেশ করা হবে।

পরিশেষে, কোম্পানির প্রতি আমাদের বীমা গ্রহীতা ও শেয়ারহোল্ডারগনের অব্যাহত সমর্থন এবং নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষ তথা বীমা উন্নয়ণ ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ, বি এস ই সি, ঢাকা ও চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, সাধারন বীমা কর্পোরেশন সহ সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অকুন্ঠ সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এর পাশাপাশি আমি আমার সহকর্মী পরিচালকবৃন্দকে আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই কোম্পানি পরিচালনায় তাদের গুরুত্বপূর্ন মতামত ও সহযোগিতা প্রদানের জন্য। সে সাথে কৃতজ্ঞতা জানাই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগনকে।

আশা করি সবার অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতায় এশিয়া ইন্স্যূরেন্স লিমিটেড ক্রম বিকাশমান ধারায় নিজের সমৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অনন্য অবদান রাখবে।

কোম্পানির অব্যাহত সমৃদ্ধি ও কল্যানকর সকল প্রচেষ্টায় মহান সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই আমাদের সহায় হবেন।

ধন্যবাদান্তে,

ইউসুফ আবদুল্লাহ্ হারুন এম.পি
চেয়ারম্যান